ব্রান্ডিং ডিজাইনারের ভবিশ্বত ভাবনা, সমস্যা ও সমাধান-
ব্রান্ডিং ডিজাইনারের ভবিশ্বত ভাবনা, সমস্যা ও সমাধান-
২০২৩ সালে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের কম্পিটিশনের কাছে অনেক বাঘা বাঘা ডিজাইনার রা কাজ পেতে চ্যাল্যাঞ্জের মূখে পড়ছেন। যদি ফাইভার এর কথাই বলি, গিগ কখন কোন কারনে ডি-র্যাংক করে বোঝাই যায় না, যদিও সার্ভিস, প্রাইসিং, ডেডলাইন, সবই মেইনটেইন করে চলা হয়। আমার কাছের অনেকেই এই সমস্যা ফেস করছেন।
যদি আপওয়ার্কের কথা বলি, জব পোস্টের বিপরীতে বিডের পরিমান অনেক বেশি পড়ে, এছাড়া আপনার বিডকে সামনে এগিয়ে রাখতে অতিরিক্ত কানেক্ট খরচ করতে হয়, যা বর্তমানে আপওয়ার্ক ফ্রিল্যান্সার দের অনেক বড় মাথা ব্যাথার কারন।
আর আমরা যারা বিবাহিত ফ্রিল্যান্সার, তারা ৯৯ডিজাইন বা ফ্রিল্যান্সার ডট কমে কনটেস্ট করে সংসার চালাতে পারবো না। কনটেস্ট করতে দরকার ঠান্ডা মাথা, আগামী মাসের ফিক্সড ৩০,০০০ টাকা খরচ কে আপনি কনটেস্ট এর পটেনশিয়াল ইনকাম দিয়ে বুঝ দিতে পারবেন না।
তাহলে করবো টা কী?
২০২২ সালের শুরুতে বুঝে যাই, মার্কেটপ্লেস আমাকে লং টার্মে ডোবাবে, আর শর্ট টার্ম খেলার বয়স আর আমার নাই, বিয়ে করেছি ভাই!!!
তাই লিংকডিনে ব্র্যান্ড ডিজাইনার হিসাবে শুরু করলাম আমার আউট বাউন্ড মার্কেটিং, পাশা-পাশি ইনবাউন্ড এর জন্য পোস্ট করা চালিয়ে যাচ্ছি।
আমার কাজ, টার্গেটেড অডিয়েন্স এর ডিজাইন এর ভূল খোজা, বা আমার ডিজাইন সার্ভিস তাকে কীভাবে হেল্প করতে পারে। এগুলো বলে তাকে আমি একটা ফ্রি সার্ভিস অফার করি। সবই ঠিক আছে।
চ্যালেঞ্জ হলো,
১। প্রসপেক্ট রা এমন ভাব করে যে আপনি ডিজাইনার, এতে আমার কী?
২। ভাই, আমার ডিজাইন, আমার কাছে ঠিক আছে।
৩। বেশিরভাগ প্রসপেক্ট লং টার্ম ইফেক্ট কে প্রাধান্য দেয় না, তাদের ইন্সটেন্ট লিড জেনারেশন, প্রফিট বাড়ায়া দিতে হবে এমন একটা ভাব প্রকাশ করতে চায়।
৪। ব্র্যান্ড চায় ৩৬০ ডিগ্রি ডিজাইন সলিউশন, আর এদিকে আপনি শুধুমাত্র ব্রান্ডিং ডিজাইন শিখে বসে আছেন।
বলতে পারেন, অন্য কাওকে হায়ার করেন, ভাই! কোয়ালিটি কনট্রোক করার জন্যও ঐ ব্যাপারে আপনার স্কিল থাকা আবশ্যক।
তাহলে উপায়?
উপায় আমি যেটা রিসার্চ করে বের করলাম,
১। সরাসরি ব্যান্ড এর গ্রোথে হিট করে এমন এলিমেন্ট ডিজাইন শিখবো
যেমন- সোশাল মিডিয়া পোস্ট ডিজাইন, ক্যারাসল ডিজাইন।
২। শর্ট ফর্ম কন্টেন্ট এর জয় জয়কার চলছে, তাই ভিডিও এডিটিং শিখতে হবে, যদিও অন্যকে হায়ার করবো এই কাজের জন্য তবুও কোয়ালিটি কনট্রোল তো করতে হবে!
৩। যতদিন কাজ করবো, একটা নিশে! তাই কোন একটা নিশের ভেতর- বাহির আমাকে জানতে হবে, শিখতে হবে তাদের চ্যালেঞ্জ গুলো কী কী।
৪। কমিউনিকেশন স্কিল ডেভলপ করার জন্য স্পোকেন ইংলিশ শিখবো অফলাইনে কোন ভালো প্রতিষ্ঠানে, অনলাইনে না! কারন? ভালো করেই জানেন।
৫। সোশাল মিডিয়াতে কীভাবে এড রান করে তা শিখতে হবে, ( কোন একটা স্পেসিফিক নিশ ধরে )
এই বিষয় গুলো করে ও শিখে আমার লাভ কী?
এগুলো জানা থাকলে, আমি আমার প্রসপেক্ট দের এভাবে বলতে পারবো, আমি তোমার এক্সিসটিং বিজনেসে ৩ গুন প্রফিট অথবা রেপুটেশন বাড়িয়ে দিতে পারবো।
এখন আমি দৈনিক ৫ টা ক্লায়েন্ট কে পার্সোনালাইজড ভাবে আউটরিচ করি, মাসে ৮০-৯০? না আমরা অলস তাই ৫০!
৫০ টা পার্সোনালাইজড আউটরিচ করলে ১০ জন ইন্টারেস্ট দেখায় ২-৩ জন সার্ভিস ক্রয় করে।
আর যখন আমি তাদের এভাবে বলবো, যে আমি আপনার ব্যাবসা ৩ গুন বাড়িয়ে দিতে পারবো, তখন ৫০ জনে সার্ভিস ক্রয় করবে ৫ জন।
তাদের প্যাকেজ করে সেট অফ সার্ভিস অফার করা যাবে ও তাদের মান্থলি প্যাকেজ অফার করা যাবে, যার মূল্য ৫০০ ডলারের কম তো হবেই না! বরং হাই টিকিট ক্লায়েন্ট পাওয়া যাবে।
এই যে ৪ বছর ব্যয় করলাম, দিন শেষে পথ খুজে পেলাম কীভাবে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার কে আগাতে হবে, এখন শুধু পরিকল্পনাকে বাস্তবে রুপ দিতে হবে।
আল্লাহ্ আমার সহায় হোন। আমিন!
আর হ্যা, কোর্স বেইচা লাভ নাই, উল্টা লস!
ক্লায়েন্টের পেছন ছুটলে কাজ আজ দেক বা কাল!
মেন্টর হয়ে গালি খাওয়ার থেকে তো ভালো?
লিখেছি, আমি!
আব্দুল্লাহ আহমেদ।
Comments
Post a Comment